January 23, 2020, 12:12 pm

গরম পানিতে গোসল করলে

গরম পানিতে গোসল করলে

যারা ব্যায়াম করতে পারেন না তাদের জন্য রয়েছে বিকল্প। গরম পানিতে গোসল তাদের প্রদাহজনিত সমস্যা ও রক্তে গ্লুকোজ মাত্রার ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করবে।

গবেষণার ফলে দেখানো হয়েছে, শারীরিক ব্যায়াম কিংবা পরিশ্রমে প্রদাহজনিত সমস্যা দূর হয়। ব্যায়ামের পর প্রদাহজনিত রাসায়নিক আইএল-৬ বেড়ে যায়। ক্রনিক লো গ্রেড ইনফ্লেমেশন নামে পরিচিত প্রদাহের উঁচু স্তরের বিরুদ্ধে লড়তে ইনফ্লেমাটোরি রেসপন্স নামের পদ্ধতি অ্যান্টি ইনফ্লেমাটোরি উপাদান দূর করতে সক্রিয় থাকে।

গরম পানি দেখলেই কেমন যেন বুক ধুকধুক করতে থাকে। আর যদি সকালে গোসল করতে হয় তাহলে তো কোনও কথাই নেই। ঘুম থেকে উঠেই যেন কান্না পায়। এই কষ্টের হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই গরম পানিতে গোসল করেন। যতই আরাম হোক না কেন, এই গরম পানির গোসল হতে পারে নানা ক্ষতির কারণ।

১। গরম পানি ত্বকের জন্য একেবারেই ভালো না। শীতকালে এমনিতেই ত্বক ও চুল রুক্ষ হয়ে যায়। আর ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই গরম পানিতে গোসল করেন। কিন্তু, গরম পানি ত্বক ও চুলকে আরও রুক্ষ করে তোলে। তাই নিজের চুল ও ত্বকের কথা চিন্তা করে ঠান্ডা পানিকে হোসল করাই উত্তম।
২। ঠান্ডা পানি রক্তে শ্বেত কণিকা বাড়াতে সাহায্য করে। ঠান্ডা পানিতে গোসল করার ফলে ত্বকও ঠান্ডা হয়ে পড়ে। ফলে তা গরম করার জন্য ত্বক নিজেই তাপ উৎপাদন করতে শুরু করে। এই তাপ উৎপাদনের সময় শ্বেত রক্ত কণিকা জন্মাতে থাকে। যা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এই সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না বাড়লে সর্দি, কাশির মতো সমস্যা দেখা যায়।
৩। ঠান্ডায় ব্যথা যেন একটু বেড়ে যায়। ঠুক করে কোথাও লাগলেই ব্যথা করে। এছাড়া মাসেল পেন তো খুব স্বাভাবিক বিষয়। আর এই সমস্যার হাত থেকে বাঁচতে অবশ্যই ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন। মাসেলের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে ঠান্ডা পানি।
৪। ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে ঠান্ডা পানি। সারাদিন কাজ করার পর হয়তো গরম পানিতে গোসল করে অনেকেই আরাম পান। কিন্তু, ক্লান্তি দূর করে শরীরকে চনমনে করে তুলতে অনেক বেশি সাহায্য করে ঠান্ডা পানি। করে দেখুন তাহলেই বুঝতে পারবেন।
৫। সকালে ঘুম থেকে উঠে কাজে যেতেই হবে কিছু করার নেই। ঠান্ডা বলে যে কাজে যাবেন না সেটা হবে না। সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব থাকলেও কেমন যেন লাগে। গোটা দিনটাই বৃথা বলে মনে হয়। তাই ঘুমভাব কাটাতে শরীরকে সতর্ক করে তোলার জন্য ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন। দেখবেন এক নিমেষে কেটে গেছে ঘুম। ঠান্ডা পানি শরীরকে অনেক বেশি সজাগ করে তোলে।

বয়স্কদের জন্য
২০০৮ সালে ৮১ জন বয়স্ক রোগীকে নিয়ে ডা. ফকনার একটি গবেষণা করেন। ফলাফলে দেখা যায়, মাত্র ৩০ মিনিট গরম জলে স্নান করেই তিন মাসের মধ্যে কমে যেতে পারে অস্টিওআর্থারাইটিস বা ক্রনিক ব্যাক পেনের মতো সমস্যা। সাম্প্রতিক ওই গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ইনফ্লেমাটোরি রেসপন্সকে বাড়িয়ে দেয়। তখন শারীরিক ব্যায়ামের বিকল্প গরম পানিতে গোসলের যৌক্তিকতাকে সামনে নিয়ে আসে যা শরীরের লো গ্রেড ইনফ্লেমেশনকে হ্রাস করে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017
Design & Developed BY ThemesBazar.Com