January 21, 2020, 4:55 pm

ধূমপান ছাড়ার পর আপনার স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে করণীয়

ধূমপান ছাড়ার পর আপনার স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে করণীয়

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ কথা আমরা সবাই জানি। এটা ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয় শরীরের সব অঙ্গ। ধূমপানের কুফল হিসেবে ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্টের রক্তনালী সরু হয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি, মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা, যৌন ক্ষমতা হ্রাসসহ নানা ক্ষতিকর দিক রয়েছে।সিগারেটের ধোয়ায় দু’শ-রও বেশি ‘টক্সিন’ রয়েছে, যা শরীরের খুবই ক্ষতিকর। তবে ধূমপান ত্যাগ করার পর দ্রুতই শরীর সে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে।
আপনি ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন? অভিনন্দন! আপনি ইতোমধ্যে আপনার শরীরের জন্য অন্যতম সর্বোত্তম একটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন। এখন আপনার স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনার সময়। ধূমপানের ফলে আপনার শরীরে যে ক্ষতি হয়েছে এখন তা মেরামতের সময়।

এখানে ধূমপান ছাড়ার পর আপনার স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

* চিরতরে ধূমপান ছাড়ুন
যদি আপনি দিনে এক প্যাকেট সিগারেট স্মোকের অভ্যাস থেকে নেমে দিনে একটি সিগারেট স্মোক করেন, তাহলে নিঃসন্দেহে তা চমৎকার শুরু। কিন্তু এ অভ্যাসটি চিরতরে ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন, এমনকি দিনে একটি সিগারেটও নয়। বিভারলি হিলস ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক আলেক্স ফক্সম্যান বলেন, ‘ধূমপান বর্জন করতে কখনোই দেরি করা উচিত নয়। আপনি জীবনে এ অভ্যাসটি যত তাড়াতাড়ি ত্যাগ করবেন, আপনার শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য তত মঙ্গল হবে।’ গবেষণায় পাওয়া গেছে, ধূমপান ত্যাগের ১০ বছরের মধ্যে ধূমপায়ীদের ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকির পরিমাণ কমে অধূমপায়ীদের ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকির সমান হয়ে যায়।

* মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
ডা. ফক্সম্যান বলেন, ‘কারো কারো ক্ষেত্রে জীবনের স্ট্রেস বা মানসিক চাপ তাদেরকে ধূমপানের মতো পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যেতে প্ররোচিত করে।’ ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পর স্বাস্থ্যের যত্নের জন্য আপনাকে স্ট্রেস লেভেলের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। মানসিক চাপে শান্ত থাকার জন্য এবং ধূমপান পুনরায় শুরু না করতে সৃজনশীল উপায় খুঁজুন।

* প্রতিদিন ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন ব্যায়াম চর্চা করা হচ্ছে সুস্থ জীবনের মূলভিত্তি, বিশেষ করে সাবেক ধূমপায়ীদের জন্য। ডা. ফক্সম্যান বলেন, ‘প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।’ যদি আপনার প্রতিদিন ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে সমস্যা হয়, তাহলে মনে রাখবেন যে আপনার জন্য আপাতত জটিল ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। যেকোনো ধরনের কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজ অন্তত ৩০ মিনিট চর্চায় আপনার কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে, ডা. ফক্সম্যানের মতে। তিনি যোগ করেন, ‘এমনকি হাঁটাও কার্ডিওভাস্কুলার রোগের (যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারণ হতে পারে) ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করবে। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণের জন্যও চমৎকার উপায় হলো ব্যায়াম চর্চা। ব্যায়াম চর্চায় যেকেউ উপকার পেতে পারে।’

* প্রচুর ফল ও শাকসবজি খান
অবশ্যই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য ভালো খাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু কিছু খাবার অন্যান্যদের তুলনায় সাবেক ধূমপায়ীদের জন্য বেশি প্রয়োজনীয়। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার সেলুলার লেভেলে প্রদাহ ও ড্যামেজ হ্রাস করতে পারে, যা তামাক ব্যবহারজনিত ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামতে সাহায্য করতে পারে। উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ ফলের মধ্যে ব্লুবেরি, লাল আঙুর, পার্পল আঙুর, রেড বেরি, গাঢ় সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি, মিষ্টি আলু, বাদাম, চা ও হোল গ্রেন অন্তর্ভুক্ত।

* মেডিটেশন চর্চা করুন
যেহেতু একজন সাবেক ধূমপায়ী হিসেবে আপনার ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের জন্য স্ট্রেস কমানো গুরুত্বপূর্ণ, তাই আপনার স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে স্ট্রেস হ্রাস করতে পারে এমন অভ্যাসে অভ্যস্ত হোন। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কমানোর একটি চমৎকার উপায় হচ্ছে মেডিটেশন চর্চা করা। ডা. ফক্সম্যান বলেন, ‘প্রতিদিন পাঁচ থেকে ১০ মিনিট মেডিটেশন চর্চা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর খুব ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।’ আপনি কোয়ান্টাম মেথডে যোগ দিতে পারেন অথবা ইন্টারনেটে সার্চ করে মেডিটেশন সম্পর্কে জানতে পারেন।

* নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
একজন সাবেক ধূমপায়ী হিসেবে আপনার শরীরে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বিকশিত হচ্ছে কিনা তা জানতে বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। যদি আপনি ধূমপান ছেড়ে দেন এবং আপনার স্বাস্থ্য মনিটর করতে চান, তাহলে বার্ষিক ফিজিক্যাল চেক-আপ, রক্ত পরীক্ষা ও বার্ষিক সিটি স্ক্যানের জন্য ফিজিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

* পর্যাপ্ত ঘুমান
ধূমপানের সঙ্গে ঘুম ব্যাহত হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে এবং নিম্নমাত্রার ঘুমের সঙ্গে হৃদরোগ, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের সংযোগ আবিষ্কৃত হয়েছে। গবেষণা সাজেস্ট করছে যে, ধূমপায়ীদের নিম্নমাত্রার ঘুমের জন্য নিকোটিন দায়ী। যেহেতু আপনি ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন, এখন পর্যাপ্ত ঘুম যাওয়ার অভ্যাস চর্চা করুন। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যান, বিছানায় থাকাকালীন ইলেক্ট্রনিকস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন এবং প্রতিরাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017
Design & Developed BY ThemesBazar.Com