March 28, 2020, 2:52 pm

হাটার উপকার

হাটার উপকার

দিনের বেশিরভাগ সময় বসে কাজ করার কারণে স্বাস্থ্যঝুকি বাড়ে। হাঁটা সবচেয়ে সহজ ব্যায়াম। ছোট-বড় যে কেউ নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। প্রশ্ন জাগতে পারে ব্যায়ামের জন্য এত কিছু থাকতে হাঁটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? হাঁটলে প্রাকৃতিকভাবে পাবেন সুস্থতা ও প্রাণবন্ত অনুভূতি। আরও রয়েছে শত উপকার। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট টেসকো দৈনন্দিন কাজের মাঝেই প্রয়োজনীয় হাটাহাটির অনেকটা অংশ সেরে নেয়া যায়। লিফটের বদলে সিড়ির ব্যবহার, গাড়ির পরিবর্তে অল্প দূরত্ব হেটে যাওয়া, হেটে বাজারে যাওয়া ও হেটে বাড়ি ফেরা, এ রকম নিয়মিত কাজগুলোর কথা কম বেশি সবাই জানেন। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট হাটার অভ্যাস করলে একাধিক রোগ থেকে দূরে থাকতে পারবেন। আজকের এই স্ট্রেসের দুনিয়ায় শরীর যে কোন সময় রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই শরীরকে চাঙ্গা রাখতে হলে হাটার কোন বিকল্প নেই বললেই চলে।

নারীদের মধ্যে শারীরিকভাবে সক্রিয়দের তুলনায় নিষ্ক্রিয়দের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুকি দ্বিগুণের বেশি। আর পুরুষদের ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে সবচেয়ে সক্রিয়দের তুলনায় নিষ্ক্রিয়দের মধ্যে এ হার তিন গুণের বেশি।তাই বসে বসে অনেক কাজ করে বা বিশাল প্রতিষ্ঠান চালিয়ে নিজেকে ‘সক্রিয়’ বা কর্মট মনে করা ঠিক হবে না। ব্যায়াম না করলেও অন্তত হাঁটুন। ব্যস্ত সময়ে হাটুন, কাজের চাপ না থাকলেও হাটুন। রান্নাঘর থেকে কফি তৈরির সামগ্রী নিজেই নিয়ে আসুন হেটে। ঘরের অন্যান্য কাজেও নিজে হাটুন। টেলিভিশন দেখার সময়ও হাটুন। ঘুমের আগে হাটুন, জেগে ওঠার পরেও হাটুন। অফিসে সহকর্মীকে ফোন না করে বা ডেকে না নিয়ে হেটে তার কাছে যান। প্রয়োজনে হেটে দুজনে কথা সেরে নিন। এভাবে দৈনন্দিন কাজগুলোর বিন্যাস করে নিন, যাতে ন্যূনতম ১০ হাজার কদম হাটা হয় প্রতিটি দিন।এই সক্রিয়তার হিসাব দিয়ে হৃদ্‌রোগ ও অন্যান্য ঝুকির মাত্রা নির্ণয় করা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিকভাবে যিনি যতটা সক্রিয়, তার ঝুকির মাত্রা ততটাই কম। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুকির মাত্রা বাড়ে। হৃদ্রোগ ছাড়াও ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, মুটিয়ে যাওয়ার ঝুকি শারীরিক সক্রিয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এখন প্রশ্ন হল, প্রতিদিন হাটাহাটি করলে শরীরের কী কী উপকার হয়?
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ৩০ মিনিট হাটলে শরীরের ভেতরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে তার প্রভাবে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। প্রসঙ্গত, গত কয়েক দশকে এ দেশে যে হারে এই রোগের প্রকোপ বেড়েছে, তাতে নিয়মিত হাটার প্রয়োজনও যে বেড়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই!প্রতিদিন ২০ মিনিট হাটার অভ্যাস করলে পেটের চর্বি বা ভিসারেল ফ্যাট কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে শরীরের অন্যত্র জমে থাকা অতিরিক্ত মেদও কমে যায়। ফলে সার্বিকভাবে ওজন হ্রাস পায়। তাই তো যারা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন, তারা আজ থেকেই অল্প বিস্তর হাটা শুরু করে দিন। দেখবেন উপকার পাবেন।কয়েকজন জাপানি বিজ্ঞানির করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাটার অভ্যাস করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। তাই তো যাদের পরিবারে এই রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা যদি নিয়মিত একটু-আধটু হাটাহাটি না করেন, তাহলে কিন্তু বিপদ!চিকিৎসকদের মতে, সারাদিনে ২০ মিনিট হাটলে নানা বিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৮ শতাংশে কমে যায়। আর এই যদি এই সময়টা ৪০ মিনিট এনে দাঁড় করতে পারেন, তাহলে তো কথায় নেই! সেক্ষেত্রে হার্ট ডিজিজের কারণে অসুস্থ হয়ে পরার সম্ভাবনা প্রায় ১৮-২০ শতাংশ কমে যায়।একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, লাঞ্চ এবং ডিনারের পর নিয়ম করে হাটার অভ্যাস করলে শরীরে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে থাকে না বললেই চলে। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই আমাদের দেশ ডায়াবেটিস ক্যাপিটালে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এ দেশে প্রতিবছর নতুন করে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে সুস্থ রাখতে এইটুকু কসরত করতে পারেন বলে মনে হয়, তাই না!

ঘাম ঝড়িয়ে হাটতে হবে না, হলকা চালে একটু এদিক সেদিক হাটলেই উপকার মিলবে। যেমন ধরুন কম বয়সে হঠাৎ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেতে হাটার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। সেই সঙ্গে শরীরে সচলতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে একাধিক লাইফস্টাইল ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আয়ুর বৃদ্ধি ঘটে।ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার তত্ত্বাবধানে হওয়া এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সারাদিনে যে কোন সময় ২০ মিনিট হাঁটলে সারা শরীরে রক্ত প্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে এনার্জির ঘাটতি কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় দূর হয়।

কিছু টিপস
* হাঁটা শুরু করার প্রথম ৫-১০ মিনিট এবং শেষের ৫-১০ মিনিট আস্তে হেঁটে শরীরকে ওয়ার্ম আপ এবং ওয়ার্ম ডাউন করুন।
* হাঁটার আগে এবং পরে একটু পানি পান করুন।
* খাওয়ার পরপরই হাঁটবেন না। ৪৫ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট অপেক্ষা করেন।
* দুপুরের ভরা রোদে হাঁটবেন না। সকাল বা বিকেলের একটি সময় বেছে নিন।
* হাঁটা শেষ করে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে কিছু খেয়ে নিন।
* হাঁটার উপকারিতা পেতে অবশ্যই সপ্তাহে অন্তত তিন বা চার দিন হাঁটতে হবে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ধরে। হাঁটতে হবে যথেষ্ট দ্রুত, যেন শরীরটা একটু ঘামে।

স্মৃতিশক্তি কার কতটা শক্তিশালী হবে, তা নির্ভর করে মস্তিষ্কের হিপোকম্পাস অংশের ওপর। আর প্রতিদিন হাঁটলে হিপোকম্পাসের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্মৃতিশক্তি এবং মনে রাখার ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। ফলে ডিমেনশিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সবাই বেশি করে হাঁটুন, সুস্থ থাকুন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017
Design & Developed BY ThemesBazar.Com